সংসদ থেকে পদত্যাগের মাশুল দিতে হবে: সাভারে জনসভায় ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির সাতজন এমপি গেলে জাতীয় সংসদ অচল হয়ে যাবে- এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। বরং সাত এমপির পদত্যাগের মাশুল দিতে হবে বিএনপিকে। এ ভুলের জন্য অনুতাপও তাদেরই করতে হবে।

গতকাল শনিবার সাভারে বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। বিএনপি-জামায়াতের 'ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচারের' প্রতিবাদে এ জনসভার আয়োজন করে সাভার ও ধামরাই উপজেলা এবং আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আজ ১০ তারিখের পর নাকি দেশ চলবে খালেদা জিয়ার নির্দেশে! তারেক রহমান ফিরে আসবেন বাংলাদেশে। কিন্তু দেখতে দেখতে ১৫ বছর চলে গেলে। তারেক ফিরে আসবেন কোন বছর?

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই দেশ চলবে। আগামী নির্বাচনেও শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসবে। মানুষ ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকেই নির্বাচিত করবে।

রাজধানীর গোলাপবাগে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যেই ঢাকার উপকণ্ঠ সাভারের এই জনসভার মধ্য দিয়ে আরেকটি বিশাল শোডাউন করেছে আওয়ামী লীগ। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশের রেডিও কলোনি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় সাভার, ধামরাই, আশুলিয়াসহ ঢাকা জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও থানা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী জনসভায় যোগ দেন। দুপুর ২টায় জনসভা শুরু হলেও সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন। এ সময় বিএনপি-জামায়াতবিরোধী স্লোগানসহ বাদ্যবাজনার তালে নেচে-গেয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেন তাঁরা। দুপুর নাগাদ নেতাকর্মীর ভিড় জনসভার মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের সড়ক ও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

বিভিন্ন সভা-সমাবেশসহ বিএনপির সাংগঠনিক বিভিন্ন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে টাকার উৎসের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, মির্জা ফখরুলদের টাকা কোথা থেকে আসে? কোন শিল্পপতি, কোন ব্যবসায়ী টাকা দিয়ে তাঁদের পিকনিক করাচ্ছেন, সে খবরও আমাদের কাছে আছে। সময়মতো সবকিছুর হিসাব নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশ তল্লাশি করে ১৬০ বস্তা চাল পেল। মশারি, বিছানা ও হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে সেখানে পিকনিক করার পরিকল্পনা করেছিল তারা। তারাই আবার পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ কী দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ললিপপ চুষবে?

বিএনপি ইস্যুতে বিদেশিদের কথা বলার দিকে ইঙ্গিত দিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আজ সকালে খবর এসেছে। বাংলাদেশের জন্য ভালো খবর আর ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য খারাপ খবর। যুক্তরাষ্ট্র ৯টি দেশের ৪০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ নেই। বিদেশি বন্ধুরা এখন বাস্তবতা অনেকটাই বুঝতে পেরেছেন। সামনে আরও বুঝতে পারবেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এতিমের টাকা আত্মসাৎ করায় কারাদ প্রাপ্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদারতায় আজ তিনি বাসায় আছেন, নিরাপদে আছেন। বিএনপি কি আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেছে?

বিএনপি শাসনামলের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার সময় হাওয়া ভবন তৈরি করে লুটপাট করা হয়েছে। যেই বাংলাদেশে তারা হাওয়া ভবন তৈরি করেছিল, সেই বাংলাদেশ আর এ দেশের মানুষ চায় না।

জনসভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিএনপির আদর্শই হচ্ছে ধর্মকে ব্যবহার করে বাংলাদেশকে লুট করা। পাকিস্তানের লেজুড়বৃত্তি করা। জিয়াউর রহমানের এই আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে সন্ত্রাস চলেছে। বাংলাদেশে হিন্দু ও উপজাতিদের মারা হয়েছে। গ্রেনেড হামলা করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার চেষ্টা হয়েছে। আমরা বাংলাদেশকে একটি স্বর্গ, একটি বেহেশত বানাচ্ছি। অথচ ২০ বছর আগেও এদেশে কুঁড়েঘর আর মঙ্গা ছিল।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বিএনপি ভেবেছিল, সমাবেশের নামে ঢাকায় সন্ত্রাস আর অরাজকতা করবে। দিনশেষে গোলাপবাগের মাঠে আস্তানা গাড়তে হয়েছে তাদের। আসলে যত গর্জে, তত বর্ষে না। তিনি বলেন, দেশের এত উন্নয়ন ওদের ভালো লাগে না। দেশের এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রধান বাধা ওরা। গাধা জল খাওয়ার আগে ঘোলা করে। তারা সেই জল ঘোলা করার চেষ্টায় আছে।

সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি ২০১৪ সালের নির্বাচনে না এসে ভুল করেছে। ২০১৮ সালে নির্বাচনে এসেও তামাশা করেছে। আগামী দিনেও না এলে তাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। তাই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ বলেন, গণসমাবেশে বিএনপির সাতজন সংসদ সদস্যের পদত্যাগের ঘোষণা রাজনৈতিক স্টান্টবাজি। সাড়ে তিনশ সংসদ সদস্যের মধ্যে সাতজনের পদত্যাগে সরকারের কিছু যায় আসে না। দেশের মানুষকে আহ্বান জানাব, বিএনপির এসব কর্মকাণ্ডে বিভ্রান্ত না হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকুন।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, বিভাগীয় সমাবেশের নামে যারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের একত্রিত করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিকে ভয় দেখাতে চেয়েছিল, তারা এখন কোথায়?

সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, বিএনপি বলেছিল ১০ ডিসেম্বরের পর বাংলাদেশ খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চলবে। ১১ তারিখে খুনি তারেক রহমান দেশে আসবেন এবং কোনো নির্বাচন না করে বিমানবন্দর থেকে সোজা বঙ্গভবন যাবেন। আজ ১০ তারিখে মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাস কারাগারে বসে আছেন আর বিএনপি সমাবেশ করছে। তাদের সব আশাই ভণ্ডুল হয়েছে।

সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা দৌলার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীবের পরিচালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

Logo

© 2023 Dinkal24 All Rights Reserved.