বাধা পেরিয়ে বিএনপির গণসমাবেশে জনতার ঢল

অসহনীয় দ্রব্যমূল্য, লাগাতার লোডশেডিং, দুর্নীতি-দুঃশাসন, লুটপাট, হামলা-মামলা ও ভোটাধিকারসহ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বরিশালে বিভাগীয় গণসমাবেশ করেছে বিএনপি। এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে দুই দিনের ধর্মঘটের ডাক দেয় গণপরিবহন মালিকরা। জনতার স্রোত ঠেকাতে না পেরে খেয়া পারাপার ও তিন চাকার যানবাহনও বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে সমাবেশস্থলে পৌঁছাতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় নেতাকর্মীদেরকে।

নগরীর প্রতিটি মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও ছিল চোখে পড়ার মতো। এতকিছুর পরও থামানো যায়নি গণসমাবেশগামী বিএনপির নেতাকর্মীদের। শত বাধা অতিক্রম করে বিএনপি নেতাকর্মীদের পদচারণায় জনসমুদ্রে পরিণত হয় বঙ্গবন্ধু উদ্যান।

গণসমাবেশে যাওয়ার পথে শনিবার ভোরে বরিশালের গৌরনদীর মাহিরা বাজারে বিএনপি নেতা ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন ও তার গাড়িবহরে হামলা হয়। বিএনপির নেতা ইশরাক হোসেন অক্ষত থাকলেও ভাঙচুর করা হয় তার পেছনে থাকা তারই বহরের বেশ কয়েকটি গাড়ি। পরে একইস্থানে সকাল ৮টায় দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজু এবং সহসম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুলের গাড়িবহরে হামলা হয়। পাশাপাশি ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেত্রী সেলিনা সুলতানা নিশিতাকে বহনকারী গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতকেও সমাবেশস্থলে যেতে দেয়া হয়নি। গৌরনদী থেকে তার গাড়ি ঢাকার দিকে ঘুরিয়ে দেয়া হয়েছে।

সব ধরনের যানবাহন বন্ধ থাকায় বিভিন্নপন্থায় বিএনপির সমাবেশস্থলে আসেন দলের নেতাকর্মীরা। কেউ নৌকা, আবার কেউ বা ভেলায় ভেসে সমাবেশে আসেন। অনেকে উপায় না পেয়ে ড্রামের ওপর ভেসেও নদী পার হয়ে সমাবেশস্থলে আসেন। ড্রামে ভেসে আসা মো. রনি বলেন, ‘সবকিছু বন্ধ করছে যাতে সমাবেশস্থলে আসতে না পারি। তাই ড্রামের ওপর ভেসে বরিশালে এসেছি। সমাবেশ সফল করতেই হবে আমাদের।’

গায়ে বিএনপির দলীয় পতাকা এঁকে, বুকে নানান ধরনের স্লোগান লিখে সমাবেশে আসেন দলের অনেক কর্মীরা। সমাবেশস্থলে ভিন্ন সাজে, হাতে পতাকা নিয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায় উজিরপুর থেকে আসা চুন্নুকে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি দলকে ভালোবাসি তাই এমন সাজে এসেছি।

সারাদেশে ১০০ সেতুর উদ্বোধনের জন্য বরিশালের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে বানানো প্যান্ডেলে অবস্থান নেয় বিএনপির সমাবেশে যোগ দেয়া নেতাকর্মীরা। বিএনপির সমাবেশস্থলে প্যান্ডেল না থাকায় এবং প্রচণ্ড রোদ থাকার ফলে নেতাকর্মীরা সেখানে আশ্রয় নেয়।

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর পক্ষ থেকে গণসমাবেশে আসা নেতা-কর্মীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হয়। বঙ্গবন্ধু উদ্যানে সমাবেশস্থলের পূর্বপাশে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের এই সংগঠনটি সকাল থেকেই তাদের সেবা প্রদাব করে ও বিনামূল্যে ওষুধও বিতরণ করে।

সমাবেশ শুরু হওয়ার আগে বরিশাল নগরের বিভিন্ন এলাকায় মোবাইলে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে করে সবথেকে বেশি বিপদে পড়েন এই এলাকার সংবাদকর্মীরা। একটা সংবাদ সংগ্রহ করে অফিসে পাঠাতে তাদের ছুঁটতে হয় ব্রডব্যান্ড সংযোগস্থলে। পাশাপাশি সমাবেশস্থলে উপস্থিত থাকা বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়েন সাংবাদিক, বিভিন্ন অফিস কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নগরের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আদনান জানান, তিনি সকাল থেকেই মুঠোফোনে ডাটার মাধ্যমে ইন্টারনেট পাচ্ছেন না। তবে বাসায় ওয়াইফাই ব্যবহার করে ইন্টারনেট পাচ্ছেন।'

মন্তব্য করুন

Logo

© 2022 Dinkal24 All Rights Reserved.