নিজ মোটর সাইকেলে করেই সাতক্ষিরার চাঞ্চল্যকর হত্যাচেষ্টা মামলার আসামীকে পলায়নে সহযোগিতা করেন সাংবাদিক সারওয়ার।

গত ১২ জানুয়ারি ২০২২ সাতক্ষীরা জজ কোর্ট এলাকায় একজন নারীসহ দুইজন কে দিনে দুপুরে নৃশংসভাবে দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে হত্যার চেষ্টা করা হয় এবং তাৎক্ষনিকভাবে রক্তাক্ত ও মুমূর্ষ অবস্থায় উক্ত গুরুতর আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় জনগণ কর্তৃক সাতক্ষিরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতরা হলেন, সাতক্ষীরা শহরের ঝুটিতলার মাওলা বক্স মোল্লার ছেলে আনারুল ইসলাম (৩৮) ও মাছখোলা গ্রামের মৃত গোলাম বারী ওরফে খোকনের স্ত্রী মঞ্জিলা খাতুন (২৫)।উক্ত ঘটনার সাতক্ষিরা সদর থানায় পেনাল কোড ১৪৩/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩৫৪/৫০৬ ধারায় রুজু করা হয়।


ঘটনাটি এলাকায় বিশেষ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাচেষ্টাটি  ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।

সাতক্ষীরা  সদর  হাসপাতালে  চিকিৎসাধীন  আনারুল  ইসলাম  জানান,  দীর্ঘ  আট  বছর  ধরে  তিনি  শহরের  মুনজিতপুরের  তাজুল  সরদারের  ছেলে  নজরুল  ইসলামের  সঙ্গে  যৌথভাবে জজ কোর্ট চত্বরে হোটেল ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। বুধবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে তিনি হোটেলের রান্না ঘরে অবস্থান করছিলেন।
ব্যবসার অংশীদার নজরুল ইসলাম তাকে চুরি করে মালামাল বাড়ি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি এর প্রতিবাদ করার একপর্যায়ে নজরুল ইসলাম তাকে মারপিট শুরু করেন। একপর্যায়ে নজরুল ইসলামের ছেলে মেহেদী রান্না করার বটি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে। তাকে রক্ষায় এগিয়ে গেলে হোটেল কর্মী মঞ্জিলার মাথায় কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে মেহেদী। এ সময় আদালতে কর্মরত কয়েকজন আইনজীবী ও সহকারি আইনজীবী তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
উক্ত ঘটনার অপরাধী নজরুলকে আশ্রয়, প্রশ্রয় ও প্ররোচনা দিয়ে গোলাম সরওয়ার নামে জনৈক ব্যক্তি নিজ মোটরসাইকেলে বহন করিয়ে আসামীকে নিয়ে পলায়নের ঘৃন্য অপচেষ্টা কালে সরওয়ারের মোটর সাইকেলে আরোহী অবস্থায় উক্ত এজাহারনামীয় ২নং আসামীকে খুলনা মোড় এলাকা থেকে আইনানুগভাবে আটক করে র‌্যাব।
পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয় এবং উক্ত মামলার দুধর্ষ আসামি নজরুল প্রাথমিকভাবে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করায় তাকে নিকটস্থ থানায় উপরোল্লিখিত মামলার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য হস্থান্তর করা হয়।
অন্যদিকে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর গোলাম সরওয়ারের সাথে উক্ত অপরাধের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। কুপিয়ে জখম করার মত অপরাধের আসামীকে  পলায়নের সহায়তা করার বিষয়ে সাংবাদিক সারওয়ার তার ভূল বুঝতে পারে এবং দেশের সম্মানীত সাধারণ নাগরিকের ন্যায় সরকারি কাজে তথা তদন্তের কাজে সহায়তা করবে মর্মে আশ্বাস প্রদান করে এবং র‌্যাব ক্যাম্প, সাতক্ষীরায় আনুমানিক রাত ১১০০ ঘটিকায় সসম্মানে ক্যাম্প ত্যাগ করেন।

পরবর্তীতে এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় যে, মামলার ১নং আসামী ফজর আলী এবং ধৃত আসামী নজরুল সাংবাদিক সরওয়ারের নিকটতম আত্নীয় এবং  সেও উক্ত ঘটনার সাথে পরোক্ষভাবে জড়িত বিধায় নিজব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য স্থানীয় ও অন্যান্য সাংবাদিকদের ভুল বুঝিয়ে র‌্যাব এর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার ঘৃণ্যঅপচেষ্টা চালায় এবং এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি কে তুচ্ছ ঘটনা এবং সাংবাদিকের সাথে খারাপ আচরণ কিংবা মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে মর্মে স্থানীয়ভাবে অপপ্রচার চালায় যা বিচার প্রক্রিয়াকে দারুনভাবে বাধাগ্রস্থ এবং ক্ষতিগ্রস্থ ও আহত নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে অমসৃন করছে।




বিষয় : সাংবাদিক

মন্তব্য করুন

Logo

© 2022 Dinkal24 All Rights Reserved.