বরগুনার পাথরঘাটায় ”উপকূলীয় জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তায়” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় উপকূলীয় মৎস্যজীবীদের সঙ্গে র‌্যাব মহাপরিচালকের মতবিনিময়।

র‌্যাব কখনই মানবাধিকার লঙ্ঘন করেনি, করবেও না। র‌্যাব জনগণের নিরাপত্তা দেয়।

এরই ধারাবাহিকতায় উপকূলের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তায় র‌্যাব সব সময় ছিল। এ কারণে আজ সুন্দরবন দস্যু মুক্ত, জেলেরা নির্বিঘ্নে মাছ শিকার করতে পারেন।

রোববার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে পাথরঘাটা নতুন বাজার ঘাটে ”উপকূলীয় জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তায়” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় উপকূলীয় মৎস্যজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এ কথা বলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, র‌্যাব মানবাধিকার লঙ্ঘন করেনি। সারাদেশের মানুষকে নিরলস পরিশ্রম করে নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে। সে হিসেবে বঙ্গোপসাগরের দস্যুতা আজ নেই। র‌্যাব সব সময়ই কঠোর অবস্থানে ছিল এখনো আছে। 

র‌্যাবের ঘাঁটির বিষয় তিনি বলেন, ঘাঁটির বিষয় অনেক আইনি প্রক্রিয়া আছে আমরা চেষ্টা করবো। আমাদের পরিকল্পনা আছে। তবে আমাদের নিয়মিত টহল আছে চলবে। আমরা সব সময় মৎস্যজীবীদের পাশে ছিলাম থাকবো।

দস্যুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা কথার কথা বলতে আসিনি। আমি এখন কি বলছি তা আপনারা শুনেছেন। আপনাদের কঠোরভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, আপনারা এ পেশা ছেড়ে দেন। এ পেশা না ছাড়লে আমাদের হাত রেখে রেহাই পাবেন না। আগের মতো অবস্থাই হবে আপনাদের। আপনাদের পূর্বসূরিদের অবস্থা যেমন দেখছেন আপনাদেরও একই পথের পথিক হতে হবে। 

ইতোপূর্বে যে সব দস্যুরা আত্মসমর্পণ করেছে তাদের র‌্যাব কর্মসংস্থান দিয়েছে। এ পর্যন্ত ৩২৬ জনকে কর্মসংস্থানের আওতায় আনা হয়েছে। আপনারাও (দস্যু) আত্মসমর্পণ করেন অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসেন আপনাদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হবে।
এছাড়া তিনি আরো বলেন, অতিসম্প্রতি বরগুনার পাথারঘাটা উপকূলের অদূরে প্রায় ৩০—৫০ কিঃমিঃ দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের অভ্যন্তরে জলদস্যুতার ঘটনা ঘঠেছে। র‌্যাবের আভিযানিক চাপে অপহৃদের ছেড়ে দেয় দস্যুরা। আমরা মুক্তিপণের টাকা উদ্বার করি। র‌্যাবের সাড়াশি অভিযানে গ্রেফতার হয় ০৬ জন। পরবতীর্তে গুলি বিনিময়ের ঘটনায় ২ জন কুখ্যাত জলদস্যুও নিহত হয়। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই র‌্যাব তার আভিযানিক কর্মকান্ড এবং গোয়েন্দা নজরদারীর মাধ্যমে এই অঞ্চলে দস্যুতা দমনে বদ্বপরিকর। আমরা আমাদের নৌ সামর্থ্য বৃদ্বি করেছি, সর্বশক্তি প্রয়োগ করছি উপকূলকে সন্ত্রাসমুক্ত করণে। আমরা আশাবাদী সুন্দরবনের মতো এই অঞ্চলেও জলদস্যু ও ডাকাত মুক্ত হবে যার ফলে সাগর নির্ভর সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা হবে আশংকামুক্ত। 

এ সময় বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, পাথরঘাটায় র‌্যাবের স্থায়ী ঘাঁটি দিতে হবে। এছাড়াও অন্তত সপ্তাহে একবার হেলিকপ্টার টহল দিলে দস্যুরা আর দস্যুতা করতে সাহস পাবেনা।
 
দস্যু অধ্যুষিত এলাকা বলে পরিচিত উপকূলীয় উপজেলা পাথরঘাটায় র‌্যাবের স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন উপকূলবাসীর দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে। এ দাবি এখন প্রাণের দাবি। এ দাবির পাশাপাশি দস্যুদের গ্রেফতার বা আটক নয়, তারা দস্যুদের বন্দুকযুদ্ধের মাধ্যমে বিচার চান উপকূলের জেলেরা।

এছাড়াও বক্তব্য দেন, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদল, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) কর্নেল কে এম আজাদ এবং বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান। শেষে দস্যুদের গুলিতে নিহত মুসার পরিবারকে ১ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। এছাড়াও দস্যুদের হামলায় আহত ও মুক্তিপণ দেয়া জেলেকে নগদ চেক দেওয়া হয়। অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) কর্নেল কে এম আজাদ তার বক্তব্যে বলেন, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলার মতো উপকূলীয় অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের প্রধানতম জীবিকা সমুদ্রে মাছ আহরণ। কিছু সংঘবদ্ধ ডাকাতদল ও জলদস্যুদের আক্রমণে উপকূলীয় জীবন—জীবিকা বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমি সেই সমস্ত অপরাধীদের হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, যারা সমুদ্রে যাবেন ডাকাতি করতে এবং যারা ইন্ধনদাতা হিসেবে রয়েছেন; যারা সুবিধাবাদী হিসেবে লুণ্ঠিত মাছ ও মালামাল ক্রয় করবেন; র‌্যাব সবাইকে খুঁজে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসবে। আমরা আমাদের গোয়েন্দা সামর্থে্যর সর্বোচ্চ ব্যবহার করব। আমাদের রয়েছে দ্রুতগামী নৌযান ও  হেলিকপ্টার। পূর্বের চেয়ে আরো অনেক প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন হয়েছে র‌্যাব ফোর্সেসে। অপরাধ দমনে আগের চেয়ে বহুগুণ দক্ষ র‌্যাব। সুতরাং অপরাধ করে  লুকানোর কোন পথ পাবেন না কেহ। উপকূলে ও গভীর সাগরে নিরাপদে থাকবে আমাদের খেটে খাওয়া মৎসজীবিরা। কোন দস্যু বা ডাকাত দলের ঠাঁই হবে না।

তিনি আরো বলেন, সাগর আমাদের সম্পদ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিশ্ব দরবারে আমরা সাগর বিজয় করেছি। এই সাগর ও উপকূল সম্পদ আর প্রাচুর্যে ভরপুর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে, তারই ঘোষিত রূপকল্প—২০৪১ ও ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে আমরা সকলে কাজ করে যাচ্ছি। এই সম্পদ ও প্রাচুর্যে ভরপুর সাগর আমাদের অর্থনৈতিক গতিশীলতাকে আরও ত্বরান্বিত করবে। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা বজায় রাখব ইনশাল্লাহ।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি আমরা দেখছি সুন্দরবন দস্যুমুক্ত হওয়ার পর কিছু দস্যু পালিয়ে এসে বরিশাল, বরগুনা, পাথরঘাটা এলাকায় দস্যুতা করছে। তাদের মাধ্যমে কেউ ভুক্তভোগী হলে র‌্যাবকে জানাতে আহ্বান করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে আমরা কাজ শুরু করেছি। এর আগে সম্প্রতি র‌্যাবের অভিযানে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকার জেলেদের অপহরণ সংক্রান্ত মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে ইলিয়াস হোসেন মৃধা নামে একজনকে গ্রেফতার করে বাহিনীটি। সে নারায়ণগঞ্জে বসে এক দস্যু নেতার মাধ্যমে মুক্তিপণের অর্থ সংগ্রহের কাজ করতো।

র‍্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করা হয়েছে। এবার বরগুনা, পিরোজপুর ও পটুয়াখালী সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে দস্যুতা বন্ধে অভিযান শুরু করেছে র‌্যাব। পাশাপাশি জলদস্যুদের আত্মসমর্পণেরও সুযোগ দেওয়া হবে।

এদিকে র‍্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা এবং দস্যুতা নির্মূল করতে এই অঞ্চলের স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে মতবিনিময় করবে বাহিনীটি। রোববার (১২ ডিসেম্বর) সকালে র‍্যাব-৮ এর তত্ত্বাবধানে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা কমপ্লেক্স এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।




বিষয় : র‌্যাব

মন্তব্য করুন

Logo

© 2022 Dinkal24 All Rights Reserved.